সকাল-সন্ধ্যার দুআ, তাসবীহ, যিকির ইত্যাদি পড়ার উত্তম সময় কোনটি?

 

প্রশ্ন: সকাল-সন্ধ্যার দুআ, তাসবীহ ও যিকিরগুলো পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় আছে কি? যদি কেউ সূর্য উঠার পর এবং সন্ধ্যার পর পড়ে তাতে কি সওয়াব পাওয়া যাবে?


উত্তর:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যহ সকাল-সন্ধ্যায় বিভিন্ন ধরণের দুআ ও তাসবীহ ও আযকার পাঠ করতেন এবং তিনি সেগুলো পড়ার জন্য বিভিন্ন ধরণের ফযিলতের কথা বলেছেন। তাই আমাদের উচিৎ, সে সকল দুয়া, তাসবীহ ও আযকারগুলো জেনে নেয়া এবং সেগুলো নিয়মিত আমল করা। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে আখিরাতে অবারিত সওয়াব দানের পাশাপাশি দুনিয়াতে নানা বিপদ-মুসিবত, যাদু-টোনা, বদনজর, জিন-পরীর আসর, হিংসা ইত্যাদি থেকে রক্ষা করেন এবং তার প্রতি রহমত ও বরকত বর্ষণ করেন-যা তার জীবনকে করে দেয় আরও দয়া ও কল্যাণ সমৃদ্ধ, আরও নিরাপদ ও বরকতপূর্ণ। 


➤ সকাল-সন্ধ্যার কোন সময়?


এ ব্যাপারে অনেক আলেম বলেছেন, সকালের দুয়া, তাসবীহ যিকির ইত্যাদি ফজরের পর থেকে সূর্য উঠার আগে পড়া উত্তম যেন দিনের সূচনা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা, রহমত ও বরকত সহকারে। অনুরূপভাবে সন্ধ্যার দুআ, যিকির ও রুকিয়াগুলো আসরের পর থেকে সূর্য ডুবার আগে পড়া উত্তম যেন রাত শুরু হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা, রহমত ও বরকত সহকারে। 


ইমাম ইবনুল কাইয়েম রহ. বলেন, আল্লাহ বলেছেন: 

وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ 

“এবং আপনার পালনকর্তার প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করুন সূর্যোদয়ের পূর্বে, সূর্যাস্তের পূর্বে।” (সূরা ত্বা-হা: ১৩০) এটি হল ঐ সকল হাদীসের ব্যাখ্যা যেগুলোতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে এই এই পড়বে....সন্ধ্যায় এই এই পড়বে।” 

সূর্যোদয়ের পূর্বের সময় হল, ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত আর সূর্যাস্তের পূর্বের সময় হল, আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।


আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:

وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ 

“ আর সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।” (সূরা গাফির/হা-মীম-সাজদাহ: ৫৫) الْإِبْكَارِ (সকাল) হল দিনের প্রথম ভাগ, الْعَشِيِّ (সন্ধ্যা) হল, দিনের শেষভাগ। দিনের প্রথম ভাগ হল, ফরজের পর আর দিনের শেষভাগ হল, আসরের পর।” [দ্রষ্টব্য: আল ওয়াবিল আস সাইয়েব গ্রন্থের পৃষ্ঠা নং ২০০ থেকে সংক্ষেপায়ন , ইবনে আল্লান রচিত শরহে আযকার আন নওবিয়্যাহ ৩/৭৪, ৭৫, ১০০)]


তবে কোন কারণে যদি সূর্য উঠার পূর্বে না পড়া হয় তাহলে সূর্য উঠার পর যোহরের আগ পর্যন্ত যে কোন সময় আর সন্ধ্যার পূর্বে না পড়া হলে সূর্য ডুবার পর রাতের যে কোন সময় পড়ে নিলেও আশা করা যায় সওয়াব পাওয়া যাবে। (আল্লামা উসাইমীন রহ.)

আল্লাহু আলাম।

▬▬▬▬▬●●●▬▬▬▬▬

উত্তর প্রদানে

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

#abdullahilhadi

Comments

Popular posts from this blog

পানিতে রুকিয়া বা ঝাড়ফুঁক করে তা পান করা বা তা দ্বারা গোসল করার বিধান এবং এ সংক্রান্ত একটি ভ্রান্তি নিরসন.

প্রশ্ন: বিড়াল কেনাবেচা করা হালাল নাকি হারাম?

মনে মনে জিকির করা কি শরিয়ত সম্মত?